নতুন সরকার গঠনে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিচ্ছেন নেপালিরা।
পুরনো প্রভাবশালী রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি এই নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছেন উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ।
ছয় মাস আগে জেন-জি আন্দোলনে হিমালয়ের দেশটিতে সরকার পতন হয়। সম্ভাব্য মূল প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে আছেন মার্কসবাদী সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং আন্দোলনের পর তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয়তা পাওয়া র্যাপার বালেন্দ্র শাহ। বালেন্দ্র কাঠমান্ডুর মেয়র ছিলেন।
বৃহস্পতিবার কাঠমান্ডুর একটি কলেজে ভোট দেওয়ার পর অবসরপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিলান্তা শাক্য (৬০) বলেন, নেপালিরা দীর্ঘদিন ধরে একটি ব্যবস্থা থেকে আরেকটিতে পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে। তিনি আশা করছেন এবার সে পরিবর্তন আসবে।
প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটার ভোট দিচ্ছেন। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ চলবে। ২০০৬ সালে গৃহযুদ্ধের অবসানের পর ৩ কোটি মানুষের এই দেশে এবারের নির্বাচনকে সবচেয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তায় মোতায়েন করা হয়েছে কয়েক হাজার সেনা ও পুলিশ সদস্য।
নির্বাচনে অনেক তরুণ প্রার্থীও সামনে এসেছেন। তারা দুর্বল অর্থনীতি ঠিক করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করা প্রবীণদের সঙ্গে তাদের সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে। প্রবীণ নেতারা বলছেন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের অভিজ্ঞতাই সবচেয়ে বড় শক্তি।
রাজধানীর বাইরে ভক্তপুর জেলায় ভোট দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে রাস্তায় নেচে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের জন্য ভিডিও ধারণ করেন গৃহিণী নির্মলা ভান্ডারি। তিনি বলেন, ‘আজ উৎসবের দিন মনে হচ্ছে। আশা করি দেশ নতুন নেতৃত্ব পাবে এবং আমরাও একটি ভালো দেশ গড়তে পারব।’
গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেন-জি আন্দোলনের সময় সহিংসতায় অন্তত ৭৭ জন নিহত হন। পার্লামেন্টসহ বহু সরকারি ভবনে আগুন দেওয়া হয়। সামাজিক মাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ শেষ পর্যন্ত দুর্নীতি ও সরকারবিরোধী আন্দোলনে গড়ায়।
খুলনা গেজেট/এমএনএস

